স্টাফ রিপোর্টারঃ
২নং বালুয়াকান্দি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শহীদুজ্জামান জুয়েলের বিরুদ্ধে অনাস্থা দেওয়ায় চেয়ারম্যানের লোকজন কর্তৃক এক ইউপি সদস্যকে হুমকি প্রদানসহ ও লাঞ্ছিত করার ঘটনা ঘটেছে।
ভুক্তভোগী ওই ইউপি সদস্যের নাম সাইফুল ইসলাম (৫১)। তিনি বালুয়াকান্দি ইউনিয়ন পরিষদের ৭নং ওয়ার্ডের সদস্য এবং মুদিরকান্দি গ্রামের মৃত জামসের আলীর ছেলে।
অভিযুক্ত চেয়ারম্যান শহিদুজ্জামান জুয়েল
ভুক্তভোগী ইউপি সদস্য সাইফুল ইসলাম বলেন, অনিয়ম এবং স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ এনে ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান শহীদুজ্জামান জুয়েল এর বিরুদ্ধে গত ২৩ মার্চ আমিসহ ইউনিয়নটির ১১জন ইউপি সদস্য অনাস্থা দেই। এই ঘটনার পর থেকে আমরা নানাভাবে হুমকি পেতে থাকি। গত সপ্তাহে আমাদের অনাস্থার ব্যাপারে তদন্ত কার্যক্রম শেষ হয়েছে, যেকোনো দিন তদন্তের রিপোর্ট প্রকাশ করা হবে। অবস্থা বেগতিক দেখে মরিয়া হয়ে উঠেছে শহীদুজ্জামান জুয়েল ও তার সমর্থকরা।
তিনি বলেন, সোমবার দুপুর দশটার দিকে ওয়ারিশ সার্টিফিকেটের ব্যাপারে কাজ থাকায় আমি ইউনিয়ন পরিষদে যাই। এ সময় ইউপি সচিবের রুমে গিয়ে কথা বলা অবস্থায় চেয়ারম্যান শহিদুজ্জামান জুয়েল সমর্থক ততৈতলা গ্রামের মাহমুদ ব্যাপারীর ছেলে বাদল (৪৫) আমাকে নানাভাবে হুমকি দিতে থাকে। দু-একদিনের ভিতরে অনাস্থা তুলে না নিলে আমি সহ অন্যান্য ইউপি সদস্যদের পা কেটে রাস্তায় বসিয়ে দেওয়ার হুমকি দেয়। এ সময় আমি তার কথার প্রতিবাদ করলে সে আমাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে। তখন আমি দৌড়ে অন্য রুমে গিয়ে আশ্রয় নেই। এসময় উপস্থিত প্যানেল চেয়ারম্যান ও ১নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য রুটু প্রধান ও সচিব ফিরোজ আহম্মেদ আজাদ তাকে শান্ত করেন। এ ব্যাপারে আমি থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছি।
এবিষয়ে ইউপি সচিব ফিরোজ আহম্মেদ আজাদ বলেন, আমাদের উপস্থিতিতেই চেয়ারম্যান সাহেবের সমর্থক বাদল ইউপি সদস্য সাইফুল ইসলামকে অনাস্থা দেওয়ার বিষয় নিয়ে গালমন্দ করতে থাকে। তাকে মারধর করবে বলে হুমকি দিতে থাকে। এ সময় তাদের দুজনের মধ্যে কথা কাটাকাটির ঘটনা ঘটে। তবে আমরা অপ্রীতিকর কিছু ঘটতে দেইনি।
এব্যাপারে বালুয়াকান্দি ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান শহিদুজ্জামান জুয়েল বলেন, তাদের মধ্যে জমি সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে বিরোধ ছিল। আমার ধারণা সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়েছে। এখানে অনাস্থার বিষয় আসার কথা নয়।
গজারিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মোল্লা সোহেব আলী এবিষয়ে বলেন, এরকম একটি ঘটনা আমরা শুনেছি। ওই ইউপি সদস্য থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখবো।
বিষয়টি সম্পর্কে গজারিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আব্দুল্লাহ আল মাহফুজ বলেন, আজকের ঘটনার ব্যাপারে আমি কিছু জানি না। তবে ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে তদন্ত কার্যক্রম শেষ হয়েছে। আমরা কিছুদিনের মধ্যেই রিপোর্ট প্রকাশ পূর্বক পরবর্তী কার্যক্রমে যাবো।